বনসাইয়ের মৃত্যুবার্ষিকীর প্রস্তুতি
তুমি চলে গেছ সেই কবে
কিন্তু মনে হয় এইতো সে দিন,
মনে হয় প্রতিটি দিন; শুধুই
তোমার চলে যাবার, আর প্রতিটি ক্ষন
কেদেঁ বৃষ্টি-স্নাত ও দরজার দিকে
চেয়ে থাকবার, আশায় বসে গোনা প্রহর
তোমার অসম্ভব ফিরে আসবার ।
বসন্ত, সে তো কবেই ফুলহারা
তবু তোমার দেহের সুবাসে
মাতোয়ারা হয় আদিম রাত্রি জাগরণ,
পারি না নিঙ্গরুতে সেই প্রিয় পাপড়ির
লাল রং, তুমি বলেছিলে ওটা আমার
ভালবাসার রঙ, ভালবাসারও নাকি রঙ হয়!
তুমি শিখিয়েছিলে আমায়,
যেমন শিখিয়েছিলে দু’হাতে মুখ আকড়িয়ে
ঠোঁটের দিকে চেয়ে বলতে পারা:
“এভাবে ভালবাসতে হয়”,
আমি শিখেছিলাম ঠিকই,
দিয়েছিলে আমায় আলোময় আধারে
প্রস্তুতির অখন্ড অবসর,
কেন চলে গেলে বনসাই আমার?
প্রতিটা দিন, প্রতিটা প্রহর
যেন শুধুই তোমার চলে যাবার।
আজ লাল রঙ দেখলে কোথাও
কেন জানি বর্ণ-প্রতিবন্ধী হতে
চায় কি এক অসম্ভব অসঙ্গায়িত ভালবাসা,
এর বীজ তোমারই বোনা, জানো কি?
অমূল্য প্রাণের বিনিময়ে যেদিন
তুমি কিনলে চিরতরে হারিয়ে যাবার
অফেরতযোগ্য টিকেট, সেদিন থেকে-
তোমার বারংবার চলে যাওয়া শুরু,
সে টিকেটের ছেড়া অংশ নিয়ে আমি-
ঘুরে ফিরি শহুরে কোলাহল ব্যস্ততম রাস্তায়-রাস্তায়
সমান্তরাল
রেললাইনের শাল-কাঠ মাড়িয়ে,
সাঁতার না জানা দেহটাকে ডুবিয়ে
মারি বৃদ্ধ তুরাগের হাটু-পানিতে।
তোমার জন্য খুব কষ্ট
…খুব কষ্ট, বনসাই
এভাবে কি চলে যেতে হয়?
উত্তরে বলেছিলে,..ভালবাসা তবু বেচে রয়!
১৬ এপ্রিল ২০১১
কাব্যগ্রন্থ: “বনসাই মেয়ে”
Leave a comment