কিচেন সিঙ্ক

“মা এখানে এত জল কেন জমে?
তোমায় কতবার না বলেছি, একটা কথারও গুরুত্ব দাও না- ভুলে যাও,
এত ব্যস্ত কেন, কাজ আস্তে করতে পার না?
ট্যাপটা আস্তে ছাড়তে পারো না? তাহলে তো সিঙ্ক থেকে জল পরে
ফ্লোর এত ভেঁজে না।”

আমি এভাবে কেন বলতাম? উদ্দেশ্য কি ছিল?
কই, আমার তো সমস্যা হত না,

রান্না-ঘরে আমার নিয়মিত যোগাযোগ মূলত ছিল নিজের খাবার প্লেট ধুঁয়ে রাখতে,
আর- সাথে যদি সিঙ্কে আরও কিছু থাকে, আধোঁয়া

আমার সমস্যা হত না,

কিন্তু রান্নাঘরের প্রতিটি ইঞ্চিতে-
আমার মায়ের হাত
আমার মায়ের খালি দুটো পা
আমার মায়ের শাড়ির পাড়-আর-আঁচল
কখনও মেক্সির সবটুকু জমিনের ছোঁয়া লাগত
মনে হয় এই মাত্র পুকুর থেকে স্নান সেরে এসেছে মা,
তিন বেলা রান্না, তিন বেলা স্নানে ভেঁজা মাতৃত্বের দায়-

[ আমার মা জীবনে মাত্র একবার পছন্দসই রান্নাঘর পেয়েছিলেন- এটা সেটা নয় ]

কিচেন সিঙ্কটা বেশ উঁচু

আমার চার ফুট সাত ইঞ্চি মায়ের সারা গা ভিজে যেত
থালাবাসন শাক-সবজি-মাছ-মাংস ধোয়ার সময়

আমার উদ্দেশ্য ছিল: মায়ের যেন ঠান্ডা না লাগে
মায়ের যেন শরীর খারাপ না হয়
মা আমার আমার কথার রুঢ়তাটুকুতে নয়
আমার যত্নটুকুতে অপ্রস্তুত হতেন, শত ব্যস্ততায়ও লাল হতেন

মাত্র পাঁচ-ছয় বছরের ব্যবধানে
দুই-দুইটা অপারেশন
আমার সর্বংসহাকে করে তোলে নাজুক
শরীরে বাসা বাধে পাষান ডায়াবেটিস
আমি আর বলতে পারতাম না আগের মত:
“আমার মায়ের কখনও সর্দি হয় নি, না হয়েছে জ্বর,
আমার মা মানুষ তো নয়, আমার মা সাক্ষাত ঈশ্বর।”

এখন আমি প্রায়ই রান্নাঘরটিতে আসি
কদিন আগে খেয়াল করলাম
জল ছিটে ততটা নয়, যতটা সিঙ্কের পাশের গাঁ বেয়ে
লুকিয়ে লুকিয়ে অভিমানী চোখের জলের মত নেমে আসে মেঝেতে

সহজে দেখা যায় না,
আমার পা ভিঁজে যায়
সেই জল আমার শরীর বেয়ে বেয়ে উঠে আসে আমার হৃদয়ে,
শিশুর মত কৌতুহলে
সেখান থেকে জল
এরপর এমন দুটি কুঠুরীতে পৌছায়
নাড়ির টান ছেড়ার পর
যা কখনও শুষ্ক হতে দেখি নি আমার মায়ের,

… ভেবে, হঠাৎ কুয়াশার মাঝে দেখি
আমি কখন যেন সজোরে জলের কল ছেড়ে দিয়েছি !

১০ জুলাই 1:00 AM
২০১৮

https://www.facebook.com/hironmoy.writer/posts/1569031916540368

Leave a comment

Blog at WordPress.com.

Up ↑