বার্তা আসে, একের পর এক-
চাও কিংবা না চাও
খাও কিংবা না খাও,
আসতেই থাকে বার্তা…
এই অফার
সেই অফার,
এই ঘোষনা,
সেই ঘোষনা,
“গুলশানের অমক রেস্তোরায় থাকছে আপনার ও আপনার প্রিয়মানুষের জন্য ১০% কম খরচে চর্বি কামানোর অস্থির সুযোগ”
কিংবা, “আপনার শিশুকে টিকা দিন, পোলিও মুক্ত বাংলাদেশ গড়ুন”,
আমি জানি, এ দেশের প্রতিটি বেকার সাকার নিরাকারেরা
পোলিওর করাল গ্রাস থেকে দেশকে বাঁচাতে,
খাটে মাঠে ঘাটে কি চর্বিই না কামাচ্ছে,
বাড়ছে জিএনপি জিডিপি,
ঠিক এভাবেই-
দেশের মোবাইল অপারেটরগুলো ছিনিয়ে নিয়েছে ঈশ্বরের দায়িত্ব,
পুরুতদের এই ঈশ্বর ছাড়া চলে না, মোল্লাদের না,
পুটকি ওসমানেরও না, তেতুল শফীরও না
শ্রেষ্ঠ দেশপ্রেমিক, সতী সাবিত্রি বিধবারও না,
টোকাইয়েরও না, টেন পার্সেন্টেরও না,
ফ্রি বেসিকেরও না, তিনশত টাকায় এক গিগাবাইটেরও না, কারও না,
কেউ কি ভেবেছে-
ক্যাপিটালিস্ট
এই ঈশ্বর গিনিপিগের সংখ্যায় হার মানিয়েছে পূর্ববর্তী সকল ঈশ্বরকে-
কিন্তু আমি এমন ঈশ্বর চাই না,
যে চাহিদা বোঝে না ভোগ বোঝে,
সেবা বোঝে না ঠিকই, ব্যবসা বোঝে,
আমি এমন অপারেটর চাই না, প্রিয়তমা,
যে অর্থহীন সব অফারের আদিখ্যেতায় আমার সাথে খেলে নৃশংসতম খেলা,
প্রতিবার আকাঙ্খিত বার্তাটি পেতে মুঠোফোন খুলি,
দেখি স্ক্রিন জুড়ে জমা বরফ-হতাশা,
আমি বুঝতে পারি-
গত যুগের ন্যায়, আজও তোমার সুযোগ হয় নি আমায় বার্তা পাঠানোর,
আমার বুকে জলছাপে আবার- হয়
তোমার দুঃখ, যন্ত্রণা আর আঁকুতির প্রতিচ্ছবি অাঁকা।।
Leave a comment